দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে পুরোনো কাপড় পুনর্ব্যবহারের জন্য জমা দিলেও সেগুলোর বড় অংশ শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার আতাকামা মরুভূমি-তে গিয়ে পড়ে—এমন তথ্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিবেশবিদদের।
চিলি প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টন ব্যবহৃত পোশাক আমদানি করে। এর বড় অংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, কানাডা ও এশিয়া থেকে। এসব পোশাকের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে বিক্রি বা লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হলেও নিম্নমানের বিপুল পরিমাণ কাপড় অবিক্রীত থেকে যায়।
এই অবিক্রীত কাপড়ের বড় অংশ অবৈধভাবে মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। অনুমান করা হয়, প্রতি বছর প্রায় ৩৯ হাজার টন পোশাক এভাবে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
উত্তর চিলির ইকিকে শহরের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানে শুল্ক ও কর ছাড়াই কাপড় আমদানি, সংরক্ষণ ও বিক্রির সুযোগ থাকায় ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত পোশাক নিয়ে আসেন।
এরপর এসব পোশাকের মান অনুযায়ী বাছাই করা হয় এবং নিম্নমানের কাপড় বিক্রির জন্য পাঠানো হয় আল্টো হসপিসিও এলাকার খোলা বাজারে। তবে যা বিক্রি হয় না, সেগুলোর বড় অংশই শেষ পর্যন্ত মরুভূমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকা হওয়ায় এই অবৈধ ফেলা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত নজরদারি ও সম্পদের অভাবও একটি বড় সমস্যা।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চিলির একটি প্রতিষ্ঠান পুরোনো কাপড় পুনঃব্যবহারযোগ্য উপকরণে রূপান্তরের প্রকল্প শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কাপড়কে ভেঙে ফাইবারে পরিণত করে তা দিয়ে গদি, আসবাবপত্র ও গাড়ির ভেতরের অংশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া নতুন আইন অনুযায়ী পোশাক উৎপাদক ও আমদানিকারকদের এখন তাদের পণ্যের শেষ ব্যবহার পর্বের দায়ও নিতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহার ও সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই পোশাক বর্জ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আতাকামা মরুভূমি বিশ্বের ‘ফ্যাশন বর্জ্যের স্তূপ’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।
















