চীনে ভাস্কর গাও ঝেন-এর গ্রেপ্তার দেশটির শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান কঠোর নিয়ন্ত্রণের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাও ঝেন ও তার ভাই গাও চিয়াং দীর্ঘদিন ধরে এমন সব ভাস্কর্য তৈরি করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান, যেখানে চীনের রাজনৈতিক ইতিহাস ও নেতৃত্বকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অন্যতম আলোচিত কাজ ছিল একটি ভাস্কর্য, যেখানে মাও সেতুং-এর আদলে তৈরি সৈন্যরা যিশু খ্রিস্টকে লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করে আছে।
তবে বহু বছর আগে তৈরি এসব শিল্পকর্মই এখন গাও ঝেনের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এই শিল্পীকে ২০২৪ সালে বেইজিংয়ের উপকণ্ঠে তার স্টুডিও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে “বিপ্লবী বীরদের অবমাননা” করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড।
সম্প্রতি তার গোপন বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়নি। এই ঘটনা চীনে শিল্প, সাহিত্য ও মতপ্রকাশের ওপর বাড়তে থাকা নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরনো শিল্পকর্মও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাও চিয়াং বলেন, এটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে রাজনৈতিক পরিবেশ বদলালে অতীতের কাজও শাস্তিযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, এটি শুধু একজন শিল্পীর বিচার নয়, বরং শিল্পের স্বাধীনতা, ইতিহাসের ব্যাখ্যা এবং আইনের মৌলিক সীমারেখার প্রশ্নও জড়িত।
চীনে আগে থেকেই অনেক শিল্পী ও লেখক রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনার কারণে সমস্যার মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আই ওয়েইওয়ে এবং লিউ শিয়াওবো, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে চীনের ক্ষমতাসীন চীনের কমিউনিস্ট পার্টি মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে গাও ঝেনের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। তবে তার স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসার জন্য জামিনের আবেদনও নাকচ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে শিল্প ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।
















