শীতের আগমনী সুর শুনতে পেয়েছে উত্তরবঙ্গ। ভোরের আলো ফোটার আগেই নেমে এলো শুভ্র এক মিছিল— বছরের প্রথম কুয়াশা। রাজশাহীতে শীতের আগমনী বার্তা, কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল ভোর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.২°সে
রাজশাহী:
প্রকৃতির পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোর থেকে রাজশাহীর নগর-প্রান্তর ছেয়ে যায় ঘন কুয়াশার এক ধূসর সৌন্দর্যে। প্রকৃতি যেন কুয়াশার মখমলি চাদর গায়ে জড়িয়ে নিয়েছে। এই কুয়াশা উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রথম স্পষ্ট বার্তা নিয়ে এলো।
কুয়াশার কারণে বিলম্বিত সূর্যোদয়
আজ ভোরে সূর্যোদয় হয় ৬টা ১৪ মিনিটে। তবে কুয়াশার এতটাই ঘন পর্দা ছিল যে, তা ভেদ করে সূর্যের আলো ঠিকরে পড়তে দেখা যায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টায় রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এই শীতল পরশ বিশেষ করে ভোর এবং গভীর রাতে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
বৃষ্টির শীতল পরশ
এই আকস্মিক শীতল পরিবেশের পেছনে রয়েছে গত কয়েকদিনের অঝোর বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার—এই তিন দিনে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং দমকা হাওয়া প্রকৃতিকে স্নাত ও সতেজ করে তুলেছে। বৃষ্টি থামতেই সেই ঠাণ্ডা আর্দ্রতা রূপান্তরিত হয়েছে কুয়াশার ঘন রূপে।
আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক বাবু এই পরিবেশের ব্যাখ্যায় বলেন,
“বৃষ্টিপাতের পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সকালে কুয়াশা পড়েছে। এটাই প্রকৃতির পক্ষ থেকে শীতের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ।”
শীতের প্রস্তুতি ও জনজীবনে প্রভাব
রাত যত গভীর হচ্ছে, শীতের পরশ তত তীব্র হচ্ছে। উত্তরের মানুষজন এখন কাঁথা-কম্বল জড়ো করতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ আগে থেকেই ভোররাতে কম্বল ব্যবহার শুরু হলেও, এখন রাতে মোটা কাঁথা বা কম্বল ছাড়া ঘুমোনো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
ভোরে কুয়াশার কারণে মহাসড়কগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। গাড়িগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে এগিয়ে চলে তাদের গন্তব্যে। অন্যদিকে, নগরীর বাসিন্দা অবনী নুসরাতের মতো অনেকেই এই সকালের ভিন্ন পরিবেশ উপভোগ করছেন।
তিনি বলেন,
“আজকের এই সকালেই এ বছরের প্রথম কুয়াশার ছোঁয়া টের পেলাম, যা এক অন্যরকম অনুভূতি ছড়িয়ে দিয়েছে।”
















