মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কাছে গ্রাহকদের তথ্য সরবরাহের অভিযোগে নরওয়ের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এক সুইডিশ অলাভজনক সংস্থা এই শ্রেণিভিত্তিক মামলা দায়ের করেছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর টেলিনরের মিয়ানমার শাখা অন্তত ১ হাজার ২০০ গ্রাহকের ফোন সংক্রান্ত তথ্য জান্তার কাছে হস্তান্তর করে, যা ব্যবহার করে বিরোধী নেতা ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এই তথ্যের ভিত্তিতে এক সাবেক সংসদ সদস্যকে ২০২২ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের জন্য প্রায় ৯ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
তবে টেলিনর জানিয়েছে, তারা আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তথ্য দিতে বাধ্য হয়েছিল। কোম্পানির দাবি, নির্দেশ অমান্য করলে স্থানীয় কর্মীদের কারাবরণ, নির্যাতন বা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিল।
তারা আরও বলেছে, সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে তাদের কোনো বিকল্প ছিল না এবং কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা সম্ভব ছিল না।
২০১৪ সালে মিয়ানমারে কার্যক্রম শুরু করা টেলিনরের গ্রাহক সংখ্যা ২০২১ সালে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছায়। তবে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি অবনতি হলে প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে দেশটি থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।
এদিকে মামলাকারীরা বলছেন, এই মামলা সফল হলে প্রথমবারের মতো কোনো টেলিযোগাযোগ কোম্পানিকে স্বৈরশাসনের কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
















