ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কোনো ধরনের প্রচার, বিজ্ঞাপন বা এ ধরনের উপাদানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে এমন সব বিষয়বস্তু অবিলম্বে অপসারণের জন্য একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে।
সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটির কাছে সাত দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কীভাবে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান প্রকাশের সুযোগ তৈরি হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত কিছু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত যেকোনো উপাদানের বিরুদ্ধে তাদের শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে। এ ধরনের বিষয়বস্তু শনাক্ত ও অপসারণে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তাদের দাবি, বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে অপরাধীরা পরিচয় গোপন করে নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে।
তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা যায়, নতুন একটি পরীক্ষামূলক ব্যবহারকারী হিসাব থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রথমে প্রাপ্তবয়স্কদের অশ্লীল উপাদানসংবলিত বিজ্ঞাপন এবং পরে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদানে প্রবেশের প্রলোভন দেখানো বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে কিছু বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অন্য একটি বার্তাবিনিময়ভিত্তিক মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যেখানে এসব অবৈধ উপাদান বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের উপাদান প্রচার করে না এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কিছু উপস্থাপনা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
















