অবিরাম বৃষ্টিতে বিধ্বস্ত কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রিফট ভ্যালি অঞ্চল। পাহাড়ি ঢালে নামছে কাদা ও পাথরের স্রোত, ডুবে যাচ্ছে গ্রাম, হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণ। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ৩০ জন। ধ্বংস হয়েছে এক হাজারেরও বেশি বাড়িঘর।
কেনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকমেন শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, গুরুতর আহত ২৫ জনকে এলগেয়ো-মারাকওয়েট কাউন্টি থেকে হেলিকপ্টারে করে এলডোরেট শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চললেও প্রবল বৃষ্টি ও দুর্ভোগে তা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, “রবিবার সকাল থেকেই উদ্ধার তৎপরতা আবার শুরু হবে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ইতোমধ্যেই মোতায়েন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য ও জরুরি সামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সামরিক হেলিকপ্টারগুলো স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় রয়েছে।”
ভূমিধসটি ঘটে শুক্রবার গভীর রাতে এলগেয়ো-মারাকওয়েট কাউন্টির পাহাড়ি চেসংগোচ এলাকায়, যা বর্তমানে কেনিয়ার স্বল্পমেয়াদি বর্ষাকালের তীব্র বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। স্থানীয় বাসিন্দা স্টিফেন কিটনি কেনিয়ার ‘সিটিজেন টেলিভিশন’-কে বলেন, “রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ এক প্রচণ্ড শব্দ শুনে সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ি। চারদিকে শুধু কাদা আর আতঙ্কের স্রোত।”
কেনিয়া রেড ক্রস তাদের প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখিয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে কাদা আর বন্যার স্রোতে নিমজ্জিত গ্রামগুলোর দৃশ্য। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “প্রবল বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক এলাকায় প্রবেশ করা এখনো অত্যন্ত কঠিন। তবুও উদ্ধার অভিযান চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।”
চেসংগোচ এলাকা অতীতে ভূমিধসের জন্য কুখ্যাত। ২০১০ ও ২০১২ সালে একই অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০২০ সালে এক প্রবল বন্যায় ভেসে যায় এলাকার একটি পুরো শপিং সেন্টার।
আজ আবারও সেই ভূমি কাঁপছে একই দুঃখে—জল, কাদা আর কান্নার বন্যায়। পাহাড়ের বুক ফেটে যেন প্রকৃতি নিজেই বিলাপ করছে কেনিয়ার মানুষের জন্য।
















