দেশের জুতা খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৬ হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ২৩৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি।
কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বাটা বাংলাদেশ ১৮৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা (১,৮৮৯.৮ মিলিয়ন টাকা) রাজস্ব আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে অর্জিত রাজস্বের তুলনায় এটি ১৯ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা বেড়েছে ২৩৮ শতাংশ, যা কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশলের প্রতিফলন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাটা বাংলাদেশের মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৫৬৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা (৫,৬৮৬.৮ মিলিয়ন টাকা)। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ১০ শতাংশ।
এ সময়ে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।
মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৮৭ পয়সায়। গত বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৯ টাকা ৮৭ পয়সা।
বাটা বাংলাদেশ জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্য পুনর্বিন্যাস এবং বাজার পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, ব্যবসায়িক কৌশলের সঠিক বাস্তবায়ন, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রাহকদের আস্থা কোম্পানির সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি বছরের প্রথমার্ধে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে নেওয়া বিশেষ বিপণন কার্যক্রম এবং নতুন পণ্যের কালেকশন বিক্রিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সমন্বিত প্রচারণা ও নতুন ডিজাইনের জুতা বাজারে গ্রাহকদের আগ্রহ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নেওয়া লক্ষ্যভিত্তিক বাণিজ্যিক উদ্যোগ বিক্রির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
তবে ব্যবসার এই সময়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা চাপে ছিল। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে ব্যয়ের সক্ষমতাও কিছুটা কমে যায়।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনার কারণে রিটেইল খাতে দৈনিক ব্যবসার সময় কমেছে। এর ফলে বিক্রয়ের সুযোগও সীমিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
চ্যালেঞ্জিং সময়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাটা বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে উদ্ভাবন, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির লক্ষ্যেও কাজ করে যাবে বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড।
















