বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করছে।
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। নতুন সরকার সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
সফরের আগে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী এবং অতীতের নীতির ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে এগোতে চায়। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়কার সম্পর্কের ধরণ আর বহাল থাকবে না।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















