অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল প্রস্তুতির কারণে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় এবং ঝুঁকিও বেড়েছে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জাতিসংঘের একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিভিন্ন ঘাটতি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকট দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা উত্তরণ প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বিশেষ করে বাণিজ্য সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতাও এখনও দুর্বল রয়েছে এবং পরিকল্পিত রূপান্তর কৌশল যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে উত্তরণ সম্ভব নয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পরই এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের সরকারের সময় থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনো মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া তা বাস্তবায়ন করলে অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নীতিগত সক্ষমতা জোরদার করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
















