বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শুরুর সময়েই স্পষ্ট হয়েছে, কোনো একক দেশের দিকে ঝুঁকে নয়, বরং ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে চায় ঢাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে জাতীয় স্বার্থ। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে প্রয়োজন ও বাস্তবতার ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপের ভিত্তিতে নয়।
ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের জন্য প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি অবস্থান নেয়নি। পরে ইরানের পাল্টা হামলার সমালোচনা করলে তেহরানের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান দেখায় যে সরকার খুব সতর্কভাবে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে সমবেদনা জানানোও সেই ভারসাম্যের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নতুন সরকার একদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য।
চীনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে তিন শক্তির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীলতা নানা জটিলতা তৈরি করেছিল। তাই এখন বহুমুখী কূটনীতি অনুসরণ করাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, দেশের উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং সীমান্ত ইস্যু—সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না, কারণ বড় শক্তিগুলোর চাপ সামাল দিয়েই বাংলাদেশকে নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।
















