যুক্তরাষ্ট্রে মার্চ মাসে বেকারত্বের হার কমেছে এবং নতুন কর্মসংস্থান বেড়েছে, যদিও ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চে ১ লাখ ৭৮ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে।
সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান বেড়েছে স্বাস্থ্য খাতে, যেখানে ৭৬ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি বড় ধরনের নার্সদের ধর্মঘট শেষ হওয়ায় এই খাতে দ্রুত পুনরুদ্ধার দেখা গেছে।
নির্মাণ খাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মার্চে এই খাতে ২৬ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। এছাড়া পরিবহন ও গুদামজাত খাতেও কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে ফেডারেল সরকারে চাকরি কমেছে। মার্চে প্রায় ১৮ হাজার সরকারি চাকরি কমানো হয়েছে, যা গত এক বছরে মোট ৩ লাখ ৫৫ হাজার চাকরি হ্রাসের অংশ।
হোয়াইট হাউস এই প্রতিবেদনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, সরকারের নীতির ফলে অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, এই পরিসংখ্যান এখনো ইরান যুদ্ধের পুরো প্রভাব প্রতিফলিত করে না। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মজুরি স্থবিরতা এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে।
ভোক্তাদের আস্থাও কমেছে। মার্চে অর্থনৈতিক আস্থার সূচক কমে গিয়ে গত বছরের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এদিকে জ্বালানির দামও বেড়েছে। প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ০৯ ডলার, যা এক মাস আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত চাকরির বাজার স্থিতিশীল থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
















