পশ্চিম ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে নতুন নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ছে একাধিক দেশ। ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিন, যুক্তরাজ্যে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং স্পেনে ১৯৫০ সালের পর জুনের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ চরম গরমের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ফ্রান্সের জাতীয় গড় তাপমাত্রা বুধবার ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ১৯৪৭ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। দেশটির অধিকাংশ অঞ্চল এখনও সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
প্যারিসে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোয় লুভর জাদুঘর ও আইফেল টাওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। লুভর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর মতোভাবে নির্মিত নয়।
ফ্রান্সে গত এক সপ্তাহে তাপপ্রবাহ-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। একই সঙ্গে দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যেও বুধবার জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জুন মাসে দেশের দৈনিক গড় তাপমাত্রা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ইতালির ১৬টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। এছাড়া জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরিতেও আগামী কয়েক দিনে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। জার্মানির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং কিছু শহরে বারবিকিউ নিষিদ্ধ করা হয়েছে দাবানলের ঝুঁকির কারণে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে তাপপ্রবাহ আরও ঘনঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে, যা পানি সংকট, দাবানল এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।















