মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, যা তার ক্ষমতা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুক্রবার দেশটির সেনা-সমর্থিত পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ৫৮৪ ভোটের মধ্যে ৪২৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পার্লামেন্টের স্পিকার এই ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালে তিনি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন এবং নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচিকে আটক করেন। এর পরপরই দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে সেনা-সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয় পায়। সমালোচকরা এই নির্বাচনকে “প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, এটি সামরিক শাসনকে গণতন্ত্রের আড়ালে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে সেনাপ্রধান থাকতে পারেন না। ফলে মিন অং হ্লাইং সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ ছেড়ে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে সেই দায়িত্ব দিয়েছেন।
চীন নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে দেশের ভেতরে অনেকেই এই পরিবর্তনে আশাবাদী নন। সাধারণ নাগরিকদের মতে, এটি কেবল সামরিক শাসনকে নতুন রূপে চালিয়ে যাওয়ার কৌশল।
এদিকে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ এখনো থামেনি। বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী নতুন জোট গঠন করে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে বাস্তবে ক্ষমতা এখনো সামরিক বাহিনীর হাতেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
















