কেনিয়ার অর্থ বিলবিরোধী তরুণদের আন্দোলনের দুই বছর পার হলেও নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, তদন্তের অগ্রগতি ধীর হওয়ায় অধিকাংশ ঘটনায় এখনো জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দুই বছর আগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে সংসদ ভবনে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় বহু মানুষ নিহত হন এবং অনেকে নিখোঁজ হন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৬ জন এবং পরবর্তী বিক্ষোভের আরও ১৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী নাইরোবিতে নিহতদের স্বজন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠন স্মরণসভা ও পদযাত্রা আয়োজন করে। তারা পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
নিহত তরুণ ডেনজেল ওমন্ডির বাবা জেমস ওতিয়েনো বলেন, ছেলেকে হারানোর কষ্ট আজও কাটেনি। তার অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এখনো কাউকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।
সরকারি তথ্য ও মানবাধিকার সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে অন্তত ৬২ জন নিহত হন। স্বাধীন পুলিশ তদারকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ঘটনার মধ্যে মাত্র তিনটি মামলা আদালতে পৌঁছেছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত এখনো চলমান।
অন্যদিকে সুসান ওয়াঙ্গারি ওয়ানজোহি নামের এক মা জানান, তার ছেলে ইমানুয়েল কামাউ মুকুরিয়াকে আন্দোলনের দিন আটক করার পর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ছেলেকে খুঁজতে দেশের বিভিন্ন কারাগারে গিয়েছেন, কিন্তু এখনো কোনো তথ্য পাননি। তার বিশ্বাস, ছেলে জীবিত আছেন এবং একদিন ফিরে আসবেন।
সরকার আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রথম ধাপে যাচাইকৃত ৩৪৮ জন ভুক্তভোগীর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার, গুরুতর ও মাঝারি আহত ব্যক্তি, যৌন সহিংসতার শিকার এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকারদের বিভিন্ন অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অর্থ দিয়ে প্রিয়জন হারানোর ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। তাদের প্রধান দাবি হলো দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিখোঁজদের সন্ধান নিশ্চিত করা।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আন্দোলনের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বিচার গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং গুমের বহু ঘটনা ঘটেছে। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকালে কয়েক ডজন মানুষ নিহত, শত শত আহত এবং বহু ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন।
নিহত ডেনজেলের বাবা জেমস ওতিয়েনো বলেন, কোনো মানুষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে প্রাণ হারাতে পারেন না। তার ভাষায়, তাদের পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা হলো প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা।
















