ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
তিনি বলেন, চলতি বছরের একটি শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, এমন অবস্থায় ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। সরকার জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যে জ্বালানি বিল কমাতে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, আবার কেউ জ্বালানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
স্টারমার বলেন, পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং হরমুজ প্রণালি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তার ওপর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করবে। এই প্রণালি বর্তমানে কার্যত বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে একটি বৈঠকের আয়োজন করছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ ও সচল করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা হলেও যুক্তরাজ্য একক বাজার, শুল্ক ইউনিয়ন বা অবাধ চলাচল ব্যবস্থায় ফিরে যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও তিনি অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের সঙ্গেই শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না বলে আবারও জানান স্টারমার।
তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং এই সংঘাতে যুক্তরাজ্যকে জড়িয়ে ফেলা হবে না।
















