মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা চীনের জন্য লাভজনক হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে চীন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন মূল্যপতনের সমস্যায় ভুগছে, যা অর্থনীতির গতিশীলতাকে দুর্বল করেছে। আবাসন খাতের ধীরগতির কারণে এই পরিস্থিতির শুরু হয়, ফলে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়ে এবং বাড়ির দাম কমতে থাকে।
এই অবস্থায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চীন শিল্প উৎপাদন বাড়িয়েছে। কিন্তু এতে বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যের সরবরাহ অনেক বেশি হয়ে গেছে, যা অতিরিক্ত উৎপাদনের সমস্যা তৈরি করেছে।
ফলে বিভিন্ন শিল্পখাতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক কোম্পানি লোকসানে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন পর্যায়ের মূল্যও কমতে থেকেছে, যা অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যা পণ্যের দাম কিছুটা বাড়াতে পারে। এতে চীন মূল্যপতনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে এই জ্বালানি সংকট চীনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে পারে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্প খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা চীনের কিছু খাতের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব অনিশ্চিত।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত উৎপাদনের ভারসাম্য রক্ষা করা।
















