আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডের ভেতরে একটি তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল বা বাফার জোন তৈরি করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে, যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তানি বাহিনী আফগান সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
পাকিস্তান দাবি করছে, তারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান নামের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডের ভেতরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে চাইছে, যাতে সীমান্ত পারাপার হামলা ঠেকানো যায়। যদিও ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ স্বীকার করেনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এটি সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে এবং স্থায়ীভাবে কোনো ভূখণ্ড দখলের উদ্দেশ্য নেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহল বলছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী হবে।
এই পরিস্থিতিতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক এলাকা বাইরের বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, কিছু হামলায় বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। পাকিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তারা কেবল সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহ্যবাহী বৈঠকে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সমাধান না হলে সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
















