মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে চলতি বছরের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আবারও কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিনিয়োগ অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতি এ বছর তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। তবে আগামী বছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে তিন দশমিক চার শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এ বছর বেড়ে চার দশমিক সাত শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আগামী বছরে তা তিন দশমিক নয় শতাংশে নেমে আসতে পারে।
সংস্থাটির গবেষণা বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের প্রসার—এই দুই বিপরীতমুখী শক্তি বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। তবে এখনো সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি, ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ না হলেও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি বাজারে অতিরিক্ত ঝুঁকি বহাল থাকবে।
সংস্থাটির পূর্বাভাসে উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। এছাড়া ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপানের তুলনায় উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে চীনের প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকবে বলেও ধারণা করা হয়েছে।
















