যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল হওয়ার পর রাশিয়ার তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এই সুযোগে ভারত দ্রুত রুশ তেলের আমদানি বাড়িয়ে আবারও প্রধান ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে।
মার্চ মাসে ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই পরিমাণ অতীতের সর্বোচ্চ আমদানির কাছাকাছি।
এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা বদলে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথের সমস্যার কারণে ভারত দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়। ফলে রাশিয়ার তেল আবার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।
একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা থেকেও তেল আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিভিন্ন ধরনের তেলের ঘাটতি পূরণ করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার ইউরাল তেলের দাম এখন আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি, যা বাজারে সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি উভয় ধরনের শোধনাগারই এই আমদানিতে অংশ নিয়েছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে চীনও রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে রাশিয়া এখন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল রপ্তানি বাড়িয়ে বাজার বিস্তৃত করছে।
এদিকে রাশিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আক্রমণের শিকার হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তেলের দামে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে এবং এশিয়ার দেশগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এতে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
















