ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঘোষিত বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগে বড় বিতর্কের মুখে পড়েছে। শিশুদের অপুষ্টি কমানো, শিক্ষায় মনোযোগ বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে ব্যাপক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।
দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হাজার হাজার রান্নাঘর স্থাপন করে প্রতিদিন লাখো শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীর কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হলেও সমালোচকদের দাবি, কর্মসূচির আকার এত বড় যে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি খাদ্যে বিষক্রিয়ার বহু ঘটনাও কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সম্প্রতি সরকারি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসার পর বিষয়টি দেশটির অন্যতম বড় দুর্নীতির ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সরকার শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিলেও পরে ব্যয় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ছোট পরিসরেও কর্মসূচিটি পরিচালনা করা রাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং এতে দুর্নীতির সুযোগ আরও বেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের অভিযোগ, কর্মসূচির বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈষম্য রয়েছে। অপুষ্টির হার বেশি এমন প্রত্যন্ত এলাকায় তুলনামূলক কম রান্নাঘর স্থাপন করা হলেও উন্নত ও সচ্ছল এলাকায় অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তারা অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যমান বিদ্যালয়ের রান্নাঘর ব্যবহার না করে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে থেকেই থাকা অবকাঠামো কাজে লাগালে সরকারি অর্থের সাশ্রয় সম্ভব ছিল।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনের তুলনায় হাজার হাজার অতিরিক্ত রান্নাঘর চালু রয়েছে, যার জন্য প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচালনার অনুমতি কেনাবেচার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।
সমালোচনার মুখে সরকার ইতোমধ্যে কর্মসূচিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে অপুষ্টিপ্রবণ প্রত্যন্ত অঞ্চল, গর্ভবতী নারী ও ছোট শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যয় কমানো এবং প্রণোদনা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়েও কাজ চলছে।
তবে সরকার এখনো কর্মসূচিটিকে সফল উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, ক্ষুধা মোকাবিলা এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য এই কর্মসূচির বিকল্প নেই।
















