বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি, প্রমাণ বিকৃতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে এই প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা।
সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া দণ্ডাদেশ দেশি-বিদেশি মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই মামলার অগ্রগতি ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হলে পুরো বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে প্রমাণ সংরক্ষণ নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হার্ডড্রাইভ পরিবর্তন করা হয়েছে, যা তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে অসঙ্গতি আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একদিকে বলা হয়েছে তদন্ত এখনো শুরু হয়নি, অন্যদিকে আবার দাবি করা হয়েছে কোনো তথ্য হারিয়ে যায়নি। এই বিপরীতমুখী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এছাড়া অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগও উঠেছে, যেখানে মামলার সুবিধা পেতে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
একটি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আইনি নোটিশ দিয়েছে। এতে বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলা হয়েছে এবং রায় বাতিলসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালের কিছু কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তারা মনে করছেন, ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনের প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার অত্যন্ত জরুরি।
















