ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সেশেলস সফরে তাকে নতুন একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই সম্মাননার মাধ্যমে বিদেশ সফরে প্রাপ্ত তার পুরস্কারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এসব সম্মাননা ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের চেয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভাবমূর্তি গঠনে বেশি ভূমিকা রাখছে।
সেশেলস সফরে দেশটির প্রেসিডেন্টের হাত থেকে মোদি একটি বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন, যা তার সফরের আগে পর্যন্ত চালু ছিল না। সম্মাননাটি পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতায় নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে সম্মাননাপত্রের একটি খসড়া অনলাইনে প্রকাশের পর সেখানে দেশটির নামসহ একাধিক বানান ভুল নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেশেলসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রচারিত নথিটি ছিল খসড়া সংস্করণ, চূড়ান্ত সনদ নয়। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করে যে সম্মাননাটি আনুষ্ঠানিক ও বৈধ।
গত এক দশকেরও বেশি সময়ে বিদেশ সফরের সময় মোদি তিন ডজনের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া সফরেও তিনি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান লাভ করেন। এর আগে স্লোভাকিয়া, ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও তিনি বিশেষ স্বীকৃতি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সম্মাননা তার সফর উপলক্ষে নতুনভাবে চালু করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে তিনি জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সম্মাননা, একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার স্বীকৃতি এবং বিপণন বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও অর্জন করেন। এসব পুরস্কারের কয়েকটি নিয়মিতভাবে প্রদান করা হলেও কিছু সম্মাননা আর কাউকে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচকদের মতে, এসব পুরস্কার ভারতের বাস্তব কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট নয়। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো মোদির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভাবমূর্তি জোরদারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধির প্রতিফলন। তারা মনে করেন, এসব স্বীকৃতি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহেরও ইঙ্গিত বহন করে।
















