দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর মানুষবাহী মহাকাশযান আবার চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার আর্তেমিস ২ মিশন সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর এখন সবার নজর এই যাত্রার সময়সূচি ও পরবর্তী ধাপের দিকে।
এই মিশনের মহাকাশযান উৎক্ষেপণের প্রায় ছয় দিনের মাথায় চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি চাঁদের চারপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে।
আর্তেমিস ২ মোট প্রায় ১০ দিনের একটি মিশন। প্রথম দুই দিন মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করবেন। এরপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের মাধ্যমে মহাকাশযানকে চাঁদের দিকে পাঠানো হবে।
তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে মহাকাশযান চাঁদের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখবে। এই সময় মহাকাশচারীরা যানের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
পঞ্চম দিনে মহাকাশযান চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাবে প্রবেশ করবে। এ সময় মহাকাশচারীরা তাদের স্পেসস্যুটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করবেন।
ষষ্ঠ দিনে মহাকাশযান চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং সেটিকে প্রদক্ষিণ করবে। এটি মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি।
এরপর সপ্তম থেকে নবম দিনে মহাকাশযান আবার পৃথিবীর দিকে ফেরার পথে থাকবে। এই সময় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
দশম দিনে মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে সমুদ্রে অবতরণ করবে এবং মিশনের সমাপ্তি ঘটবে।
এই মিশনে চারজন মহাকাশচারী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে অভিজ্ঞ নভোচারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের প্রতিফলনও রয়েছে।
এই মিশনে চাঁদে অবতরণ করা হবে না, তবে এটি ভবিষ্যতের মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশনের সফলতা ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথকে আরও সুগম করবে।
















