ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ আসলে কার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।
বুধবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ সত্যিই কি আমেরিকান জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে?” তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও প্রচারণার মাধ্যমে বাস্তবতা আড়াল করা হচ্ছে।
যুদ্ধের সমালোচনা
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল ও ওষুধ কারখানায় হামলা শুধু মানবিক বিপর্যয়ই তৈরি করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তার ভাষায়, এসব হামলা স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে, মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংঘাতের বীজ বপন করছে।
আলোচনার মাঝেই হামলার অভিযোগ
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, যখন ইরান আন্তর্জাতিক পারমাণবিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছিল, তখনই দেশটির ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রশ্ন
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতি বাস্তবেই কার্যকর হচ্ছে কি না। তার মতে, এই যুদ্ধ সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইসরায়েলের প্রভাবের অভিযোগ
চিঠিতে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইসরায়েলের প্রভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। তার অভিযোগ, ইসরায়েল ইরানকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে এবং ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরাতে চাইছে।
ইরানের অবস্থান
ইরান এই যুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং বলেন, দেশটির সাধারণ জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো শত্রুতা নেই।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
এই চিঠি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান জোরালো করতে তথ্যযুদ্ধ চালাচ্ছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
















