বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে পাঁচ বছর বিলম্বের পর শুরু হয়েছে নতুন জনগণনা কার্যক্রম, যা এবার প্রথমবারের মতো প্রায় এক শতাব্দী পর জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ অন্তর্ভুক্ত করছে। এই বিশাল কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জনগণনার পরিধি ও প্রক্রিয়া
প্রায় ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য সংগ্রহে তিন মিলিয়নের বেশি কর্মী এক বছর ধরে কাজ করবেন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত এই জনগণনায় স্মার্টফোন অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং নাগরিকদের জন্য স্ব-নিবন্ধনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
এই জনগণনা দুই ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাসস্থান ও মৌলিক সুবিধা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষা, পেশা, অভিবাসনসহ সামাজিক-অর্থনৈতিক তথ্যের পাশাপাশি জাতি সংক্রান্ত তথ্য নেওয়া হবে।
জনগণনার গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণনা কেবল জনসংখ্যা গণনা নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই সরকারি নীতি নির্ধারণ, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি এবং সম্পদের বণ্টন করা হয়।
একই সঙ্গে নতুন জনগণনা দেশের নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিলম্বের প্রভাব
২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড মহামারির কারণে জনগণনা বিলম্বিত হয়। এতে দেশের জনসংখ্যা ও সামাজিক কাঠামো সম্পর্কিত তথ্য পুরনো হয়ে যায়, যা নীতি নির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতিভিত্তিক তথ্য নিয়ে বিতর্ক
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে। ১৯৩১ সালের পর প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সমর্থকদের মতে, জাতিভিত্তিক বৈষম্য এখনও সমাজে বিদ্যমান, তাই সঠিক নীতি প্রণয়নের জন্য এই তথ্য জরুরি। এতে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের বাস্তব অবস্থা বোঝা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, জাতির তথ্য সংগ্রহ সমাজে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে এবং এই পরিচয়কে স্থায়ী করে তুলতে পারে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও উদ্বেগ
জনগণনার তথ্য ভবিষ্যতে সংরক্ষণনীতি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া নাগরিকত্ব যাচাই কর্মসূচির সঙ্গে এই তথ্য ব্যবহার হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সামগ্রিকভাবে, ভারতের এই জনগণনা শুধু পরিসংখ্যান সংগ্রহের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশের সামাজিক কাঠামো, রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
















