ওয়াশিংটনের নীরব আকাশে আবারও ভেসে উঠেছে যুদ্ধের গন্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হোয়াইট হাউসকে সবুজ সংকেত দিয়েছে—ইউক্রেনকে দেওয়া যেতে পারে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। পেন্টাগনের মূল্যায়নে, এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারে কোনো ঘাটতি সৃষ্টি হবে না। এখন কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পালা—আর সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে।
কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মভোজে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি এই ক্ষেপণাস্ত্র দিতে অনিচ্ছুক। কারণ, তাঁর ভাষায়, “আমাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন, তা অন্যকে দিতে চাই না।”
পেন্টাগনের জয়েন্ট স্টাফ এই মূল্যায়নের খবর হোয়াইট হাউসে পাঠিয়েছিল জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের ঠিক আগে। জেলেনস্কি তখন রাশিয়ার ভেতরে থাকা তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম এমন অস্ত্রের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছিলেন। প্রায় এক হাজার মাইল পাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সেই লক্ষ্যেই আদর্শ।
ইউরোপীয় মিত্ররা এই মূল্যায়নে আশাবাদী হয়ে ওঠে। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আর অজুহাত নেই ইউক্রেনকে এই অস্ত্র না দেওয়ার। ট্রাম্পও কয়েকদিন আগেই বলেছিলেন, “আমাদের কাছে প্রচুর টমাহক আছে, ইউক্রেনকে দিতে পারি।”
তবে হঠাৎ করেই তাঁর অবস্থান বদলে যায়। জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের দিন ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “আমাদের নিজেদেরই টমাহক দরকার।” বৈঠকের আড়ালে তিনি ইউক্রেনীয় নেতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন—এই অস্ত্র এখনই দেওয়া হবে না।
সেই সিদ্ধান্ত আসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক ফোনালাপের পরদিন। পুতিন সতর্ক করেছিলেন, টমাহক মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো শহরে আঘাত হানতে পারে—যা রণক্ষেত্রে তেমন ফল না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া সম্পর্ককে বিপর্যস্ত করবে।
তবুও সূত্র বলছে, ট্রাম্প এখনও চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত বাতিল করেননি। প্রয়োজনে দ্রুত টমাহক সরবরাহের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বরং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুতিনের শান্তি আলোচনায় অনীহায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন রুশ তেল কোম্পানির ওপর এবং বাতিল করেছেন বুদাপেস্টে নির্ধারিত বৈঠকও।
যদিও পেন্টাগন নিজস্ব মজুদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন নয়, তবু ইউক্রেন কীভাবে এই জটিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। টমাহক সাধারণত জাহাজ বা সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়, অথচ ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত। তাই এখন ভাবা হচ্ছে, ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণ দেওয়া যেতে পারে কি না। মার্কিন মেরিন ও সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই এমন লঞ্চার তৈরি করেছে।
একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা আশাবাদীভাবে বলেন, “ইউক্রেনীয় প্রকৌশলীরা আগেও ব্রিটেনের স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে ‘অসম্ভবকে সম্ভব’ করেছে। টমাহাকেও তারা কাজে লাগানোর উপায় খুঁজে নেবে।”
এরই মধ্যে জেলেনস্কি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তাঁর দেশ চলতি বছরের শেষ নাগাদ নিজেদের দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায়, যাতে যুদ্ধের সমাপ্তি “ন্যায্য শর্তে” ঘটে।
“বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা আর আমাদের নিখুঁত নিশানা একসাথে কাজ করছে যুদ্ধের ন্যায্য সমাপ্তির দিকে,” তিনি লিখেছেন। “এই বছরের মধ্যেই সব গভীর আঘাতের লক্ষ্য সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে, দীর্ঘপাল্লার পদক্ষেপের পরিধি বাড়াতেই হবে।”
















