ইরানের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক হামলাগুলো বহু ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব হামলা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের হামলা কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গভীর সংকটে ফেলেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত আরও বাড়লে সব পক্ষের জন্য ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পারমাণবিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরান কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে আঘাত হেনেছে, যদিও এসব দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়িত নয়।
ইরান দাবি করেছে, তারা মূলত অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে আক্রান্ত দেশগুলো বলছে, এসব হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো যেমন বিমানবন্দর, জ্বালানি কেন্দ্র ও বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে কাতার উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে কাতার জানিয়েছে, তারা সরাসরি মধ্যস্থতায় যুক্ত না থাকলেও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের নেতৃত্বে চলমান শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে দেশটি।
সম্প্রতি পাকিস্তান তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে বৈঠক করে যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে। পরে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাবও ঘোষণা করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, শান্তি আলোচনা শুরু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আলোচনার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও খোলা রাখছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
















