সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান শহর বাইদোয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দেশটির জাতীয় সেনাবাহিনী। এই ঘটনার পরপরই ওই অঞ্চলের আঞ্চলিক নেতা পদত্যাগ করেছেন, যা দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ-পশ্চিম রাজ্যের প্রেসিডেন্ট আবদিয়াজিজ হাসান মোহাম্মদ লাফতাগারেন সামাজিক মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সম্প্রতি বিতর্কিতভাবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।
রাজধানী মোগাদিশু থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাইদোয়া শহরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী ও মানবিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে সেনা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শহরটি অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের অর্থমন্ত্রীকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই সংবেদনশীল সময়ে কোনো প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে চলে গেছেন এবং কিছু মানবিক সংস্থা তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
এই ঘটনা সোমালিয়ার ভঙ্গুর ফেডারেল ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। নির্বাচন পদ্ধতি, সাংবিধানিক সংশোধন এবং রাজনৈতিক আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সামগ্রিকভাবে, বাইদোয়ায় সেনা নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নেতৃত্বের পরিবর্তন সোমালিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















