চীনের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক কৌশলগত বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, নয়াদিল্লি কোনো একক মিত্রের ওপর নির্ভর না করে বহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে।
সম্প্রতি চীন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত এই পরীক্ষা বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে এই পরীক্ষা হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ নতুন করে নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কৌশল পর্যালোচনা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করেছেন। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং উন্মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণাকে এগিয়ে নেওয়া। তবে ভারত এ প্রচেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে যাওয়ার কৌশল হিসেবে দেখাতে চায় না।
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এখন বহুমুখী ভারসাম্য রক্ষার প্রবণতা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রেখেই জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।
তবে এই কৌশল বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ভারতের সম্ভাব্য অংশীদার দেশগুলোর অনেকেরই চীনের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তারা সব ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে আগ্রহী নাও হতে পারে। একই সঙ্গে এত বিস্তৃত কূটনৈতিক উদ্যোগ বজায় রাখতে ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, তবুও ভারত এখন থেকেই বিকল্প অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আঞ্চলিক সংকট দেখা দিলে একক কোনো শক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। এই বহুমুখী কৌশলই আগামী দিনে ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
















