বাংলাদেশের সিলেট থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তৃত ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার মাধ্যমে ড. কালি প্রদীপ দত্ত চৌধুরী এখন বৈশ্বিক ব্যবসা জগতে এক উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার জীবনযাত্রা প্রবাস, পরিশ্রম এবং বহুমুখী বিনিয়োগের এক বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দত্তরাইল গ্রামে জন্ম নেওয়া ড. চৌধুরীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় সিলেট এমসি কলেজে। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন। এরপর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা হয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন।
যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর সময় তার আর্থিক অবস্থা সীমিত ছিল। তবে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও ধীরে ধীরে তিনি চিকিৎসা খাতে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তা ব্যবসায়িক নেতৃত্বে রূপান্তর করেন। এই পথ ধরে গড়ে ওঠে কেপিসি গ্রুপ, যা বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা, রিয়েল এস্টেট, অবকাঠামো, শিক্ষা, জ্বালানি, কৃষি এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে একাধিক হাসপাতাল ও চিকিৎসা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট ও আবাসন উন্নয়নেও তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে হলিউড পার্কে একটি আধুনিক হোটেল নির্মাণ কাজ উল্লেখযোগ্য। এই প্রকল্পে আবাসন, সম্মেলন, বিনোদন ও স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে একটি বহুমুখী অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কোচেলা ও হেমেট এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও চলছে।
হেমেট অঞ্চলে তার নামে একটি উন্নয়ন এলাকা গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যবসায়িক প্রভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি শুধু ব্যবসা নয়, বরং একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছেন।
ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে অপরাধ ও সামাজিক সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও অটুট রয়েছে। নিয়মিত দেশে আসা, উন্নয়ন প্রকল্পে আগ্রহ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনা তার এই সংযোগকে আরও দৃঢ় করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একাধিকবার দেশে এসে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন।
ঢাকার পূর্বাঞ্চলে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ এবং সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ড. চৌধুরীর যাত্রা একটি প্রবাসী উদ্যোক্তার উদাহরণ, যেখানে চিকিৎসা পেশা থেকে ব্যবসায়িক নেতৃত্বে রূপান্তর ঘটেছে। তার অভিজ্ঞতা দেখায়, ভিন্ন ভিন্ন দেশে কাজ করার মাধ্যমে কীভাবে একটি বহুমাত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।
বর্তমানে তার নেতৃত্বে কেপিসি গ্রুপ একটি বহুখাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত তার এই পথচলা প্রমাণ করে, অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফলতা অর্জন সম্ভব।
















