বাণিজ্যের টানাপোড়েনের মাঝেও আলো জ্বলে উঠেছে সমঝোতার, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও মিলল সময়ের বাড়তি ছোঁয়া। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার শনিবারের কথোপকথনে উভয় দেশই আসন্ন শুল্ক সময়সীমা কয়েক সপ্তাহের জন্য বাড়াতে রাজি হয়েছেন।
সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে শেইনবাউম বলেন, “আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে ১ নভেম্বর যেন আমাদের যোগাযোগের অভাবে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়। আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, এবং আমাদের দলগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।”
এই সিদ্ধান্তের পর মেক্সিকোর পেসো ডলারের বিপরীতে ০.২৯ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ায় ১৮.৩৮ পেসো প্রতি ডলার।
জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের জন্য কিছু মেক্সিকান পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছিল, যাতে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালানো যায়। সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ এই সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন সমঝোতার ফলে আপাতত বাণিজ্যযুদ্ধের ছায়া কিছুটা সরল।
শেইনবাউম জানান, “আমরা প্রায় এই ইস্যুটির সমাধান পর্যায়ে পৌঁছে গেছি। এখন ৫৪টি অবশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কাজ চলছে।”
২০২০ সালে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্যচুক্তি (USMCA) মেক্সিকোকে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির বড় আঘাত থেকে রক্ষা করেছে। আগামী বছর এই চুক্তির পর্যালোচনা হওয়ার কথা।
অক্টোবরের শুরুতে শেইনবাউম আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অনুকূল চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি তখন জানিয়েছিলেন, বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর, স্যাটেলাইট, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাব উন্নয়নে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার সরকারের।
“আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি,” শেইনবাউম বলেন, “এবং ১ নভেম্বর কোনো বিশেষ শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নেই।”
অন্যদিকে, ট্রাম্প গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছেন যে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হবে, কারণ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে হোয়াইট হাউস সন্তুষ্ট নয়।
মেক্সিকো কি এখন কানাডার সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা শুরু করবে? এমন প্রশ্নে শেইনবাউমের সংযত উত্তর, “চলুন, এখনই এমন পূর্বাভাস না দিই।”
















