প্রায় দুই দশকের অনবদ্য ফুটবলযাত্রায় পা রেখে লিওনেল মেসি এখনও আন্তর্জাতিক গৌরবের ক্ষুধায় তৃষ্ণার্ত। বয়স তার শরীরে ক্লান্তি টেনে এনেছে, কিন্তু হৃদয়ে এখনো জ্বলে ওঠে নীল-সাদা স্বপ্নের আগুন—আবারও বিশ্বকাপে নামতে চান তিনি, আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে নিয়ে।
৩৯-এ পা রাখতে যাওয়া মেসি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন। তাতে বোঝা যায়, অবসরের পথে হাঁটার কোনো তাড়া তার নেই।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই কিংবদন্তি বলেন, “বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া এক অসাধারণ অনুভূতি। আমি অবশ্যই চাই সেখানে থাকতে, ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে, দলের জন্য কার্যকর হতে। আগামী মৌসুমে অনুশীলন শুরু হলে শরীর কতটা সাড়া দিচ্ছে, তা দেখেই সিদ্ধান্ত নেবো।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের হাতে এখনো আগের বিশ্বকাপের সেই ট্রফি, সেটিকে মাঠে নেমে আবার রক্ষা করার সুযোগ পাওয়া কতটা রোমাঞ্চকর! জাতীয় দলের হয়ে খেলাটা সবসময় স্বপ্নের মতো, আর বিশ্বকাপ মানেই সেই স্বপ্নের পূর্ণতা।”
২০০৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ঘটে মেসির। এরপর পিএসজি এবং ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়ে নতুন করে আলো ছড়ান আমেরিকান লিগে, যেখানে তার উপস্থিতি ফুটবলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহকে ফিরিয়ে আনে অভূতপূর্বভাবে।
ক্লাব ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অসংখ্য সাফল্য জয়ের পরও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বহুদিন ছিলেন অসম্পূর্ণ। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে স্বস্তি পান, আর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে স্বপ্নটা পূর্ণতা পায়।
মেসি বলেন, “এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। পেশাদার ক্যারিয়ারে যা কিছু চেয়েছিলাম, প্রায় সবই পেয়েছি—কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি, সেটা একেবারেই আলাদা। একজন ফুটবলারের জীবনের চূড়ান্ত গর্ব।”
দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১৯৫ ম্যাচে ১১৪ গোলের রেকর্ডধারী মেসির সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ষষ্ঠ ও শেষ মঞ্চ।
ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের চেজ স্টেডিয়ামে গত ১৪ অক্টোবর পুয়ের্তো রিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বল ছোঁয়ার সময়ও যেন বোঝা যাচ্ছিল—বয়স যতই বাড়ুক, ফুটবল এখনো মেসির শ্বাসের মতো অবিচ্ছেদ্য।
















