ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ ও সার্বিক আবাদ খরচ নিয়ে তীব্র শঙ্কায় পড়েছেন দেশের প্রান্তিক কৃষকেরা। রবি মৌসুমের অন্যতম প্রধান ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসা বোরো ধান পুরোপুরি সেচনির্ভর। কিন্তু দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ সেচপাম্প ডিজেলচালিত হওয়ায় এবং বোরোর উৎপাদন খরচের একটি বড় অংশ সেচের পেছনে ব্যয় হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম সাইফুল ইসলাম এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিপির সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন উভয়েই এই বিষয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় সেচ ও কৃষিযন্ত্রের খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা একদিকে কৃষকের মুনাফা তলানিতে ঠেকাবে এবং অন্যদিকে খাদ্যের দাম বাড়িয়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। এই সংকট মোকাবেলায় ফড়িয়া বা মিলমালিকদের পরিবর্তে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের দাম বাড়ার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে আবাদের প্রতিটি ধাপে। আগে ট্রাক্টর দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে যে খরচ হতো, এখন প্রতি বিঘায় প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ যোগ হচ্ছে। একইভাবে, বোরো মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১৮ বার পর্যন্ত সেচ দিতে হয়। খোলাবাজারে আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৬ টাকায় কেনা গেলেও বর্তমানে তা ১৪০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে শুধু সেচবাবদই বিঘাপ্রতি প্রায় ১ হাজার ১৯০ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। এছাড়া ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে হারভেস্টার মেশিনের খরচও ৩ হাজার থেকে বেড়ে ৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ১৭ লাখ ২০ হাজার সেচযন্ত্রের মধ্যে ১২ লাখের বেশি চলে ডিজেলে। আসন্ন বোরো মৌসুমে শুধু সেচ কাজের জন্যই কৃষকদের অন্তত ১০৪ কোটি ৪০ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হবে। আগের দামে যেখানে এই পরিমাণ ডিজেলের পেছনে প্রায় ১২ হাজার ৬ কোটি টাকা খরচ হতো, দাম বাড়ার কারণে এখন তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৪ হাজার ৯৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, কেবল সেচেই কৃষকদের অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হবে।


























