২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার আশাবাদ
নরেন্দ্র মোদি এবং মার্ক কার্নি ঘোষণা দিয়েছেন, ভারত ও কানাডা চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোবে। দুই বছরের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক জোরদারে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর মোদি জানান, একটি “সমগ্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব” চূড়ান্ত করা হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সহায়ক হবে। কার্নি বলেন, বছরশেষেই চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক সহযোগিতা
দুই দেশ ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিতেও একমত হয়েছে। কানাডীয় কোম্পানি ক্যামেকো ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। পাশাপাশি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর ও উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।
মোদি বলেন, অসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা। কার্নির ভাষায়, পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই চুক্তি সহায়ক হবে।
টানাপোড়েন পেরিয়ে নতুন অধ্যায়
২০২৩ সালে কানাডায় এক শিখ কর্মী হত্যাকাণ্ড নিয়ে অটোয়া যখন নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তখন দুই দেশের সম্পর্ক তীব্র সংকটে পড়ে। ভারত সেই অভিযোগকে “অযৌক্তিক” বলে প্রত্যাখ্যান করে। পরে কূটনীতিক বহিষ্কার ও বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত হয়।
চার দিনের ভারত সফরে কার্নি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে মাত্রার যোগাযোগ হয়েছে, তা গত দুই দশকের তুলনায় বেশি। তার মতে, এটি কেবল সম্পর্ক পুনর্গঠন নয়, বরং নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রেক্ষাপটে ভারত ও কানাডা উভয়ই বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণে আগ্রহী। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কৃষিভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খলে সহযোগিতা জোরদার করাই এখন দুই দেশের অগ্রাধিকার।
















