ম্যাক্রোঁর ‘উন্নত প্রতিরোধ’ পরিকল্পনা; ন্যাটোর বাইরে আলাদা নিরাপত্তা কাঠামো
এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, ফ্রান্স তার পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়াবে এবং সাময়িকভাবে ইউরোপের আটটি দেশে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বিমান মোতায়েনের সুযোগ দেবে। তিনি একে বলছেন “উন্নত প্রতিরোধ”—যা ন্যাটোর ব্যবস্থার পরিপূরক হলেও আলাদা নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
ফ্রান্সের ইল লঁগ পারমাণবিক সাবমেরিন ঘাঁটিতে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউরোপকে বহুমাত্রিক হুমকির মুখে নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে হবে। তার মতে, “স্বাধীন থাকতে হলে ভীতিপ্রদ হতে হয়।”
এই পরিকল্পনায় অংশ নিতে সম্মত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, সুইডেন ও ডেনমার্ক। এসব দেশে ফরাসি “কৌশলগত বিমান বাহিনী” ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের হিসাব জটিল হয়ে ওঠে।
ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স আর তার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ করবে না—যা অতীতের স্বচ্ছতা নীতির পরিবর্তন। বর্তমানে ফ্রান্সের হাতে আনুমানিক ২৯০টি ওয়ারহেড রয়েছে, যা বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
ম্যাক্রোঁর দাবি, বিশ্ব এখন “কঠোরতর” হয়ে উঠছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, চীনের সামরিক সম্প্রসারণ, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ায় পারমাণবিক শক্তির বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইউরোপের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তবে তিনি বলেন, এটি কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামার উদ্যোগ নয়; বরং নিশ্চিত করা যে কোনো প্রতিপক্ষ যেন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হামলার কথা ভেবে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা করে।
ইউরোপে বর্তমানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যই একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে হাজার হাজার ওয়ারহেড থাকলেও ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় ফ্রান্সের এই নতুন উদ্যোগ একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















