৬৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, দেশজুড়ে ১১৪ স্থানে ধাতব টুকরো পড়ার তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা প্রতিহত করার দাবি দোহা’র, উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আহ্বান
দোহা, কাতার – ইরানের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কাতারের বিভিন্ন স্থানে পড়ে আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ খলিফা আল-মুফতাহ টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, মোট ৬৬টি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। দেশজুড়ে ১১৪টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধাতব টুকরো পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে জনগণকে সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার এবং ঘরের ভেতরে অবস্থান করার আহ্বান জানায়। অচেনা ধ্বংসাবশেষের কাছে না যাওয়ার এবং তা দেখলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিতীয় দফার হামলাও সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তাদের দাবি, সব ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই আকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একে বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বলে উল্লেখ করেছে। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে বিবৃতিতে বলা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানানো হয়। উত্তেজনা বন্ধ করে দ্রুত আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানায় দোহা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান পাল্টা আঘাত হানার অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। জর্ডানেও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চলাকালে দোহা’র কাছে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তেহরান। বর্তমান হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা থাকায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে রমজানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়করণ, সতর্ক সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দে উপসাগরীয় দেশগুলোতে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক নেতারা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।
















