যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এজেন্ট কেসি ওয়াসারম্যান তার প্রতিভা ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেফরি এপস্টিন ও গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার যোগাযোগসংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০০৩ সালে তিনি এপস্টিনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন এবং ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ইমেইলে ব্যক্তিগত কথাবার্তা আদান–প্রদান করেছিলেন। এরপরই কয়েকজন পরিচিত শিল্পী, যার মধ্যে গায়িকা শ্যাপেল রোয়ানও রয়েছেন, সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
শুক্রবার কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় ৫১ বছর বয়সী ওয়াসারম্যান জানান, তিনি সংস্থার জন্য “বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন” এবং তাই বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তিনি লেখেন, তার অতীতের ব্যক্তিগত ভুলের কারণে সহকর্মী ও গ্রাহকদের অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে, এজন্য তিনি দুঃখিত।
বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করা ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ইমেইল যোগাযোগের জন্য তিনি অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তার দাবি, এই যোগাযোগ দুই দশক আগে হয়েছিল, যখন তাদের অপরাধ সম্পর্কে তিনি বা জনসাধারণ কিছুই জানতেন না।
এপস্টিনের কোনো ভুক্তভোগী ওয়াসারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি এবং প্রকাশিত নথিতে তার নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা নয়।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান উঠলেও আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি পদে বহাল থাকবেন। তাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তার সম্পর্ক প্রকাশিত তথ্যের বাইরে যায়নি এবং তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
সংস্থার বোর্ড জানায়, ২০০৩ সালে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে একটি মানবিক মিশনে তিনি ও তার তৎকালীন স্ত্রী এপস্টিনের বিমানে আফ্রিকা সফর করেছিলেন। এটি ছিল এপস্টিনের সঙ্গে তার একমাত্র সরাসরি যোগাযোগ বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিতর্কের জেরে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক তারকা সংস্থা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শ্যাপেল রোয়ান সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি আর ওয়াসারম্যানের সঙ্গে কাজ করবেন না। তিনি বলেন, কোনো শিল্পী বা কর্মীকে এমন নেতৃত্বের অধীনে কাজ করতে বাধ্য করা উচিত নয়, যা তাদের নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এছাড়া সংগীতশিল্পী অরভিল পেক, রক ব্যান্ড ওয়েডনেসডে, গায়িকা ওয়েইস ব্লাড এবং সাবেক ফুটবল তারকা অ্যাবি ওয়ামবাচও সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েছেন।
















