যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের অর্থায়ন বিল পাস না হওয়ায় আংশিক সরকারি অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। এর জেরে বিমানবন্দরে দীর্ঘ সারি ও ফ্লাইট বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন ভ্রমণ ও বিমান সংস্থা।
এয়ারলাইনস ফর আমেরিকাসহ একাধিক সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, অর্থায়ন চুক্তি না হলে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের কর্মীরা বেতন ছাড়া কাজ করতে বাধ্য হতে পারেন। এতে অনিয়মিত অনুপস্থিতি বাড়তে পারে, যার ফলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হবে এবং ফ্লাইট দেরি হতে পারে।
শনিবার মধ্যরাত থেকে এই আংশিক অচলাবস্থা শুরু হয়, যখন কংগ্রেস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জন্য অর্থ বরাদ্দ বিল পাস করতে ব্যর্থ হয়। বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিতে কড়াকড়ি ও সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন।
তাদের দাবির মধ্যে ছিল—অভিবাসন কর্মকর্তাদের মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা, কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্টভাবে প্রদর্শন এবং পরোয়ানা পাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ। এসব দাবি বিলের অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সিনেটে অর্থায়ন বিল আটকে দেওয়া হয়।
এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়তে পারে উপকূলরক্ষী বাহিনী ও পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের ওপর। উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েকদিন অর্থ না পেলে প্রায় ৫৬ হাজার কর্মী বেতন ছাড়া থাকবেন এবং জীবনরক্ষাকারী নয় এমন কিছু অভিযান স্থগিত রাখতে হতে পারে।
তবে ফেডারেল বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অর্থায়ন আগে থেকেই নিশ্চিত থাকায় গত বছরের মতো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবু পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের কর্মীরা যদি অসুস্থতার অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এদিকে, কংগ্রেস আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরতিতে রয়েছে। সমঝোতা না হলে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
















