যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসনে নিখোঁজ ন্যান্সি গাথ্রির বাড়ি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরের একটি বাড়িতে শুক্রবার রাতে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। তবে এ অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পিমা কাউন্টি শেরিফ দপ্তর।
তদন্তকারীরা একটি সূত্রের ভিত্তিতে ফেডারেল আদালতের নির্দেশে ওই তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করেন। একই রাতে একটি যানবাহন থামিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে কর্মকর্তারা জানান, গাথ্রির বাড়ি থেকে এমন ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেছে যা তার বা তার ঘনিষ্ঠ কারও নয়। ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গাথ্রি দুই সপ্তাহ আগে গভীর রাতে নিজের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তাকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শনিবার শেরিফ দপ্তর নিশ্চিত করে যে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে সূত্র বা সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাসিন্দাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এলাকায় একাধিক চিহ্নিত ও অচিহ্নিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি, বিশেষ অভিযানের দল ও ফরেনসিক কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
তদন্তকারীরা আরও কয়েকটি দস্তানা উদ্ধার করেছেন, যার একটি ন্যান্সি গাথ্রির বাড়ি থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে পাওয়া যায়। তবে বাড়ির ভেতর বা প্রাঙ্গণে দস্তানা পাওয়া গেছে—এমন খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে শেরিফ দপ্তর। সব প্রমাণ পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেডারেল তদন্ত সংস্থা বৃহস্পতিবার সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনা প্রকাশ করে জানায়, তিনি প্রায় পাঁচ ফুট নয় থেকে পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি উচ্চতার, গড়ন স্বাভাবিক এক পুরুষ। দরজার ঘণ্টার ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ফুটেজে তাকে একটি ব্যাকপ্যাক বহন করতে দেখা যায়।
ফুটেজ প্রকাশের পর এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা, যার মধ্যে প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই চার হাজার তথ্য আসে। নিখোঁজের তথ্য দিলে পুরস্কারের অর্থ ৫০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করা হয়েছে।
শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বর্ণনা এখনো তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তবে অন্য কোনো সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভিডিও ফুটেজ চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ন্যান্সি গাথ্রির নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন ছিল এবং তার চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা ছিল। তার সন্তানরা সামাজিক মাধ্যমে বারবার আবেদন জানিয়ে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন তিনি এখনো জীবিত এবং নিরাপদে ফেরাতে প্রয়োজন হলে অর্থ দিতেও প্রস্তুত।
















