কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ছোট শহর টাম্বলরিজে সাম্প্রতিক গণগুলির ঘটনায় নিহত আটজনের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় বিভিন্ন দলের ফেডারেল নেতা ও গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনও উপস্থিত ছিলেন, যা জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেয়।
সমবেত জনতার উদ্দেশে কার্নি বলেন, “কানাডিয়ানরা তোমাদের সঙ্গে আছে, আমরা সবসময় তোমাদের পাশে থাকব।” নিহতদের মধ্যে ছয়জন কিশোর শিক্ষার্থী ছিল। শহরের বাসিন্দারা এখনো শোকাহত; অনেককে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর বাতিল করে শোকসভায় যোগ দেন এবং অন্যান্য দলীয় নেতাদেরও একই বিমানে করে নিয়ে আসেন। বিরোধী নেতা পিয়ের পয়লিয়েভ্রে বলেন, “আজ কোনো দল নেই—শুধু আমরা সবাই কানাডিয়ান।”
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সন্দেহভাজন ১৮ বছর বয়সী জেসি ভ্যান রুটসেলার, যিনি ঘটনাস্থল স্কুলেই আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানায়, হামলায় নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্য করা হয়নি; তিনি যে কাউকে সামনে পেয়েছেন, তাকেই আক্রমণ করেছেন বলে ধারণা।
হামলায় মোট চারটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে—দুটি সন্দেহভাজনের বাড়ি থেকে এবং দুটি স্কুল থেকে। কীভাবে অস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল তা এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজনের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ২০২৪ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছিল। তার মায়ের লাইসেন্স থাকলেও সেই লাইসেন্সে কোনো অস্ত্র নিবন্ধিত ছিল না।
পুলিশ আরও জানায়, সন্দেহভাজনের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা ছিল এবং অতীতে তাকে মনোরোগ মূল্যায়নের জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোয় পুলিশ সন্দেহভাজনের একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
ঘটনায় মোট নয়জন নিহত হন, যার মধ্যে সন্দেহভাজনও রয়েছে। স্কুলে নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক ছিলেন। বাড়িতে নিহত হন সন্দেহভাজনের মা জেনিফার জ্যাকবস এবং তার ১১ বছর বয়সী সৎভাই এমেট জ্যাকবস।
নিহত ১২ বছর বয়সী কাইলি স্মিথ, অ্যাবেল মওয়ানসা, জোয়ি বেনোয়া, টিকারিয়া ল্যামপার্ট, ১৩ বছর বয়সী ইজিকিয়েল স্কোফিল্ড এবং ৩৯ বছর বয়সী শান্নদা আভিউগানা-ডুরান্ডের নাম নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের প্রাণবন্ত, সহৃদয় ও আলোকিত উপস্থিতি হিসেবে স্মরণ করেছে।
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কাজ দ্রুত শেষ করে শহরটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করাই এখন তাদের লক্ষ্য।
















