‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ রূপ নিচ্ছে স্থায়ী জোটে; লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক আজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের রাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণ দৃশ্যমান হচ্ছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি যখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনের মাঠের এই জোট এখন সংসদীয় রাজনীতিতেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
নির্বাচন পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জোটের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণে শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে। শনিবার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান অবস্থান:
- বিরোধী দলের ভূমিকা: জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, তাদের এই নির্বাচনী ঐক্য এখন সংসদে বিরোধী দলীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। জামায়াতের নির্বাহী কমিটির বৈঠকেও জোটবদ্ধভাবে বিরোধী দলে থাকার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- নাম পরিবর্তন: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ এখন থেকে ‘১১ দলীয় ঐক্যজোট’ নামে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
- এনসিপি ও অন্যান্য শরিক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা জোট বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া এলডিপি, জাগপা ও লেবার পার্টি নির্বাচনে আসন না পেলেও জোটের সাথেই থাকার সংকেত দিয়েছে।
- জাতীয় সরকারের সমীকরণ: নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার গঠনের একটি প্রস্তাব থাকলেও এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় জামায়াত জোটের কোনো দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফল ও শক্তিমত্তা: এবারের নির্বাচনে জামায়াত জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পেয়ে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে। জোটের অন্য শরিকদের মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে। ফলে সংসদে তারা একটি সংহত বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আন্দোলনের শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই মোর্চায় থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েনের জেরে তারা জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করে এবং ১টি আসনে জয়ী হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াত জোটের এই নতুন ভূমিকা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
















