ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি পথ থাকলেও প্রতিটির সঙ্গেই বড় ধরনের সামরিক, মানবিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি জড়িত।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে যুদ্ধবিরোধী জনমত এবং অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য বৃহৎ সামরিক অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
লেখকের মতে, প্রথম বিকল্প হিসেবে আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও বাড়ানো হলেও এতে বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে মানবিক সংকট, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে সীমিত স্থল অভিযানকে বাস্তবসম্মত মনে করা হয়নি। নিবন্ধে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোতায়েন বাহিনীর আকার ও সক্ষমতা বড় ধরনের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয় এবং এমন অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো কোনো পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতকে বৈশ্বিক সংকটে রূপ দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
লেখকের মূল্যায়নে, সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে আলোচনায় ফিরে যাওয়া এবং সমুদ্রপথে স্বাভাবিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করা। এতে যুদ্ধের বিস্তার রোধ, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
















