৩০টি পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণে বছরে ৭১ লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি কেবল তিনটি প্রধান জীবনযাত্রার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা যায়। নেচার মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক, সংক্রমণ এবং অ্যালকোহল—এই তিনটি বিষয়ই লাখ লাখ মানুষের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (IARC)-এর গবেষকরা ১৮৫টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, ২০২২ সালে প্রায় ৭১ লাখ ক্যানসার শনাক্তকরণের পেছনে ৩০টি পরিবর্তনযোগ্য বা ‘মডিফিয়েবল’ ঝুঁকির হাত ছিল। এর মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য একাই ১৫ শতাংশ নতুন ক্যানসার কেসের জন্য দায়ী। এছাড়া বিভিন্ন সংক্রমণ (যেমন HPV, হেপাটাইটিস বি ও সি) ১০ শতাংশ এবং অ্যালকোহল ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুস, পাকস্থলী এবং জরায়ুমুখের ক্যানসারের একটি বড় অংশই আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রুখে দেওয়া সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিনের মাধ্যমে জরায়ুমুখ ও গলার ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। আবার তামাক বর্জন করলে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কয়েক গুণ কমে আসে।
গবেষণার প্রধান লেখক হান্না ফিঙ্ক জানান, “বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০ জন নতুন ক্যানসার রোগীর মধ্যে ৪ জনই এমন কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন যা আমরা চাইলেই পরিবর্তন করতে পারতাম।” জনস্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সরকারি পর্যায়ে তামাক ও অ্যালকোহলের ওপর উচ্চ কর আরোপ, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সুলভ মূল্যে টিকাদানের মাধ্যমে এই বিশাল সংখ্যক প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
ক্যানসার ঝুঁকি কমাতে আইএআরসি-র পরামর্শসমূহ:
- তামাক বর্জন: ধূমপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।
- অ্যালকোহল পরিহার: ক্যানসার ঝুঁকির ক্ষেত্রে অ্যালকোহলের কোনো ‘নিরাপদ মাত্রা’ নেই, তাই এটি যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ ও শরীরচর্চা: সুষম ডায়েট মেনে চলুন এবং প্রতিদিন কিছু সময় শরীরচর্চা করুন। বেশিক্ষণ বসে না থেকে সচল থাকার চেষ্টা করুন।
- টিকাদান: জরায়ুমুখের ক্যানসার রোধে এইচপিভি ভ্যাকসিন এবং লিভার ক্যানসার রোধে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করুন।
















