যুক্তরাষ্ট্রে আটক প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভকারী Leqaa Kordia-কে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, টেক্সাসের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্র থেকে তাঁকে হঠাৎ হাসপাতালে নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় তাঁদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
৩৩ বছর বয়সী কোরদিয়াকে গত সপ্তাহে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর চাচাতো ভাই হামজা আবুশাবান বলেন, ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পরিবার ও আইনজীবীরা তাঁর অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাননি। পরিবারের অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়তো মারা গেছেন।
পরিবার ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, কোরদিয়া খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সীমিত। প্রায় এক বছর ধরে তিনি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রয়েছেন।
২০২৪ সালে Columbia University-তে প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। একই ঘটনায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া অন্যদের মুক্তি মিললেও কোরদিয়া এখনো আটক রয়েছেন।
তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে তাঁর পরিবারের প্রায় ২০০ সদস্য নিহত হন, যা তাঁকে বিক্ষোভে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করে। পরিবারের দাবি, চলমান আটকাবস্থা তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
মানবাধিকার সংস্থা Amnesty International তাঁর মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার চর্চার কারণে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটক রাখা হয়েছে।
কোরদিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফেডারেল বিচারক দুইবার তাঁকে জামিনে মুক্তির উপযুক্ত বলে রায় দেন। কিন্তু প্রতিবারই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আপিল করে তাঁকে হেফাজতে রাখে। প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চ থেকে একাধিক প্রো-প্যালেস্টাইন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়।
অভিবাসন দপ্তর বলছে, কোরদিয়াকে ছাত্রভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে আটক করা হয়েছে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে নয়। তবে গ্রেপ্তারের প্রাথমিক বিবৃতিতে তাঁর কর্মকাণ্ডের উল্লেখ ছিল।
কোরদিয়া পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি স্থায়ী বসবাসের আবেদন করেন। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি ভুল পরামর্শের শিকার হন।
বর্তমানে তিনি টেক্সাসের প্রেইরিল্যান্ড আটক কেন্দ্রে রয়েছেন, যা তাঁর নিউ জার্সিভিত্তিক পরিবারের বাসস্থান থেকে অনেক দূরে। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে অপুষ্টিকর খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি জন্মদিন ও পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে দূরে। তাঁদের আহ্বান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করা হোক।
















