গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে জার্মানিতে চিকিৎসাধীন থাকা এক মার্কিন চিকিৎসক সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসা গ্রহণের পর তাকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বার্লিনের একটি সরকারি হাসপাতাল জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং শনিবার তার কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে। তিনি কঙ্গোতে একটি খ্রিস্টান মিশনারি দলের হয়ে সার্জন হিসেবে কাজ করছিলেন।
গত মে মাসে পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে বিরল ধরনের বুন্ডিবুগিও ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব কঙ্গোতে ইবোলা আক্রান্ত এক রোগীর অস্ত্রোপচার করার সময় তিনি সংক্রমিত হন। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে উগান্ডা থেকে জার্মানিতে আনা হয়।
চিকিৎসকের স্ত্রী ও চার সন্তানও পরে বার্লিনে পৌঁছান। তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গ না থাকলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পৃথক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল। শনিবার তাদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও তুলে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলার জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা নেই। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে এবং দ্রুত পরীক্ষামূলক প্রয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি পরীক্ষামূলক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সেবা পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কঙ্গোর সেইসব মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, যারা এমন উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না।
হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিভাগের পরিচালক এই সুস্থতাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব কঙ্গো থেকে শুরু হওয়া নতুন ইবোলা প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শনিবার কঙ্গো সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৮ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেশী উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন আক্রান্ত এবং দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংক্রমণ ঠেকাতে উগান্ডা কঙ্গোর সঙ্গে পশ্চিম সীমান্তের বেশির ভাগ অংশ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সীমান্তনির্ভর ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইবোলা মহামারিগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে।
















