কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে নরওয়ের এক প্রভাবশালী কূটনীতিক ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। অভিযুক্ত কূটনীতিক মোনা জুল রোববার জর্ডান ও ইরাকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
নরওয়েজিয়ান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক দিন আগে স্বাক্ষরিত বলে দাবি করা একটি উইলে জুলের প্রতিটি সন্তানকে ৫০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। এই তথ্য প্রকাশের পরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিতে প্রকাশিত ইমেইলে দেখা যায়, মোনা জুলের স্বামী তেরিয়ে রুদ-লারসেন ২০১৯ সালের জুনে প্যারিসে এপস্টেইনের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রে যৌন পাচারের অভিযোগে এপস্টেইনের গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা।
মোনা জুলের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেন না। অন্যদিকে রুদ-লারসেনের আইনজীবী বলেছেন, তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে যে ফৌজদারি দায়ের কোনো ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট নথিতে কারও নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণ হয় না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এপস্টেইনের সঙ্গে জুলের যোগাযোগ ছিল গুরুতর বিবেচনাগত ভুল। এ ঘটনায় নরওয়ের অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা ওকোক্রিম ‘গুরুতর দুর্নীতি’ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে বলে সোমবার পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে মোনা জুল তার সরকারি পদমর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সুবিধা পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজধানী অসলোর একটি সম্পত্তিতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে।
মোনা জুল ও তেরিয়ে রুদ-লারসেন ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক অসলো চুক্তির আলোচনায় যুক্ত অল্প কয়েকজন কূটনীতিকের মধ্যে ছিলেন। ওই চুক্তিকে তখন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার সংঘাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল।
নরওয়ের গণমাধ্যমের দাবি, রুদ-লারসেনের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ ছিল বিস্তৃত এবং একাধিকবার জুলসহ তার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত মাসে যে বিপুল পরিমাণ এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ করেছে, তাতে লাখো ইমেইল, ছবি ও এফবিআই প্রতিবেদন রয়েছে। এসব নথিতে নাম আসার পর নরওয়ের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আলোচনায় এসেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগল্যান্ড এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রধান নির্বাহী বর্গে ব্রেন্ডে।
এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর মেটে-মারিট নরওয়ের জনগণের কাছে গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ইয়াগল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে এবং তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
এদিকে বর্গে ব্রেন্ডে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনবার এপস্টেইনের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং তার যোগাযোগ নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম যে স্বাধীন পর্যালোচনা শুরু করেছে, তা তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
















