২০২৬ মডেলের RAV4 ঘিরে ডিলারদের কারসাজি; স্টক সংকটে অন্য গাড়ি কেনার পরামর্শ
বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা ২০২৬ সালে তাদের গাড়ির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। উত্তর আমেরিকা ও বৈশ্বিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানিটি জানিয়েছে, সাধারণত বছরে দুইবার দাম বাড়ানো হলেও চলতি বছর অন্তত তিনবার স্টিকার প্রাইস বা দাম পরিবর্তন করা হতে পারে। মূলত কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান ইনপুট খরচ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আমলের ট্যারিফ বা শুল্কের বোঝা সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে আসছে টয়োটার জনপ্রিয় মডেল RAV4-এর নতুন প্রজন্ম।
২০২৬ মডেলের এই গাড়িটি ডিলারদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করলেও উৎপাদন ও লজিস্টিক সংকটের কারণে এর সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত। এই সুযোগে মার্কিন ডিলাররা গাড়িটির ওপর হাজার হাজার ডলারের ‘মার্কেট অ্যাডজাস্টিং’ বা অতিরিক্ত প্রিমিয়াম যোগ করছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিলাররা ক্রেতাদের ‘ক্রাউন’ বা ‘সি-এইচআর প্লাস’-এর মতো তুলনামূলক কম চাহিদার মডেলগুলোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
টয়োটা নর্থ আমেরিকার গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্রিস্ট এবং অপারেশনস প্রধান অ্যান্ড্রু গিলেল্যান্ড জানিয়েছেন, বর্তমানে নতুন গাড়ির গড় দাম ৫০ হাজার ডলার স্পর্শ করা তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টয়োটার লক্ষ্য হলো প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর ধারা অনুসরণ করা, যাতে তারা হুট করে বাজার না হারায়। তবে ট্যারিফ বা শুল্কের পুরো বোঝা এখনই সরাসরি ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় না কোম্পানিটি।
যদিও বছরের শুরুতে RAV4-এর স্টক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, তবুও টয়োটা আশা করছে এই ঘাটতি তারা তাদের অন্যান্য মডেল যেমন— ক্রাউন সিগনিয়া, বিজড (bZ) সিরিজ এবং নবপ্রবর্তিত C-HR+ দিয়ে পূরণ করতে পারবে। ডিলাররা ইতিমধ্যে ক্রেতাদের পরামর্শ দিচ্ছেন যে, RAV4-এর জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে এই মডেলগুলো বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ মডেলের RAV4 একটি সম্পূর্ণ অল-ইলেক্ট্রিফাইড পাওয়ারট্রেন নিয়ে বাজারে আসছে, যা হাইব্রিড বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড অপশনে পাওয়া যাবে। এই আধুনিক প্রযুক্তির কারণেই গাড়িটির চাহিদা এখন আকাশচুম্বী।
ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা গাড়ির গায়ে লাগানো মূল দামের চেয়েও ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বেশি দাবি করছে। এমনকি সান হোসে বা পালো আল্টোর ডিলাররা RAV4 লিমিটেড বা XSE মডেলের দাম ৫০ হাজার ডলারের ওপরে নিয়ে ঠেকিয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করছেন যে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দামের অস্থিরতা চলতেই থাকবে। তাই যারা নতুন টয়োটা কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হতে পারে, কারণ বছরের পরবর্তী ধাপে দাম আরও বাড়ার পরিষ্কার সংকেত দিয়ে রেখেছে কোম্পানিটি।
















