সিডনির বন্ডাই জাংশনের একটি ব্যস্ত শপিং সেন্টারে প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানোর সুপারিশ করেছেন করোনার।
৪০ বছর বয়সী জোয়েল কাউচি, যিনি কিশোর বয়সে সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন, ২০২৪ সালে ওয়েস্টফিল্ড বন্ডাই জাংশনে ছুরি হামলা চালান। সে সময় তিনি কোনো ওষুধ গ্রহণ করছিলেন না এবং গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। হামলায় ছয়জন নিহত এবং আরও দশজন আহত হন।
নিউ সাউথ ওয়েলসের করোনার জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কাউচির চিকিৎসা প্রদানকারী মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আন্দ্রেয়া বোরোস-লাভ্যাক তাকে ব্যক্তিগত ও সহানুভূতিশীল চিকিৎসা দিলেও, হামলার কয়েক বছর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া সতর্কবার্তা যথাযথভাবে গুরুত্বের সঙ্গে নেননি।
করোনার বলেন, পরিবারের সদস্যরা যখন কাউচির মানসিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, তখন চিকিৎসকের পক্ষ থেকে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। তাকে পুনরায় ওষুধ গ্রহণে উৎসাহিত না করাকে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ছয় মিনিটের মধ্যে সংঘটিত এই হামলায় ডন সিঙ্গেলটন, ইউসুয়ান চেং, জেড ইয়াং, অ্যাশলি গুড, ফারাজ তাহির এবং পিক্রিয়া দারচিয়া নিহত হন। আহতদের মধ্যে গুডের শিশুও ছিল। পরে পুলিশের গুলিতে কাউচি নিহত হন।
পাঁচ সপ্তাহব্যাপী করোনার তদন্তে চিকিৎসক, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের স্বজনদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তদন্তের লক্ষ্য ছিল হামলার পেছনের ঘটনাপ্রবাহ বোঝা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণ করা।
করোনার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কাউচিকে ধীরে ধীরে ওষুধ থেকে সরিয়ে আনা হয়, যা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়নি। তবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে তার মায়ের উদ্বেগের পরও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করা হয়নি।
কাউচি অন্য শহরে চলে যাওয়ার পর নতুন চিকিৎসকের কাছে পাঠানো ছাড়পত্রেও জরুরি মনোরোগ পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট স্পষ্ট করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
করোনার টেরেসা ও’সালিভান জানান, নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কুইন্সল্যান্ড স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, পুলিশের কাছে পাঠানো একটি ইমেইলে কাউচির মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও জনবল সংকটের কারণে সেটি উপেক্ষিত হয়। এছাড়া হামলার সময় শপিং সেন্টারের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ওই কাজের জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত ছিলেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।
করোনার ২৩টি সুপারিশের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার, স্বল্পমেয়াদি আবাসন সুবিধা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র হামলার সময় সাধারণ মানুষের জন্য পালাও, লুকাও, জানাও ধরনের সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের সুপারিশ করা হয়।
পুলিশ ও জরুরি সেবার দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করা হলেও গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলা হয়, সেগুলো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়েছে।
আদালতের বাইরে নিহত জেড ইয়াংয়ের স্বামী নোয়েল ম্যাকলাফলিন বলেন, এই তদন্ত প্রমাণ করেছে যে ঘটনাটি হঠাৎ সহিংসতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার পরিণতি।
এদিকে জোয়েল কাউচির বাবা-মা এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা আশা করেন করোনারের সুপারিশ ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
















