ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ম্যানুফ্যাকচারার প্লেটসহ আই-৫ হাইওয়েতে দেখা মিলল শাওমি YU7 Max-এর; বিশ্ববাজারে আর২ লঞ্চের আগে চলছে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা
আমেরিকার সড়কে হঠাৎ করেই দেখা মিলেছে চীনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ইলেকট্রিক গাড়ি শাওমি YU7 Max-এর, যা নিয়ে গাড়িপ্রেমী ও প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চীনের বাজারে তুমুল জনপ্রিয় হলেও যুক্তরাষ্ট্রে শাওমির এই গাড়ি আমদানির বৈধতা নেই। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আই-৫ হাইওয়েতে গাড়িটিকে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ‘ম্যানুফ্যাকচারার প্লেট’ লাগিয়ে চলতে দেখা যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রিভিয়ান (Rivian) এটি পরীক্ষা করছে। বিশেষ করে প্লেট নম্বর ‘১৩২’ ইতিপূর্বে রিভিয়ানের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক গাড়িতে দেখা গেছে। রিভিয়ান তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ৪৫ হাজার ডলার মূল্যের ‘আর২’ মডেলটি আগামী জুনের মধ্যে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করতে এবং শাওমির উন্নত প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিতেই রিভিয়ান এই ‘বেঞ্চমার্কিং’ বা তুলনামূলক পরীক্ষা চালাচ্ছে। যদিও রিভিয়ান সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা জানিয়েছে যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্য দেশের গাড়ি নিয়ে গবেষণা করা একটি সাধারণ শিল্প চর্চা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিট এবং চীনের প্ল্যাটফর্ম ‘শাওহংশু’-তে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিগুলোতে দেখা যায়, শাওমি YU7 Max গাড়িটি মার্কিন হাইওয়েতে দ্রুত গতিতে চলছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের যে প্লেটটি গাড়িটিতে ব্যবহৃত হয়েছে, তা মূলত গাড়ি নির্মাতাদের বিশেষ অনুমতিপত্র হিসেবে পরিচিত। যেহেতু ইলিনয় রিভিয়ানের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র, তাই এই যোগসূত্রটি আরও জোরালো হয়েছে।
রিভিয়ানের সিইও আরজে স্কারিংজ আগেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণের জন্য তাদের কাছে বেশ কিছু চীনা ইভি (EV) রয়েছে। মূলত ইউরোপের বাজারে রিভিয়ান আর২ এবং শাওমির এই ইভি সরাসরি একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছে। কারিগরি দিক থেকে শাওমি YU7 Max ৮০০-ভোল্ট আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা অত্যন্ত দ্রুত চার্জিং সুবিধা দেয়।
অন্যদিকে, রিভিয়ান আর২ তৈরি করা হয়েছে ৪০০-ভোল্ট প্ল্যাটফর্মে। যদিও রিভিয়ান তাদের গাড়িটিকে অ্যাডভেঞ্চার এবং আউটডোর প্রেমীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করছে, তবুও চার্জিং গতি এবং প্রযুক্তিতে পিছিয়ে না থাকতেই তারা এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন চীনা প্রযুক্তির খুঁটিনাটি বুঝতে মরিয়া।
















