যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের নাম উঠে এসেছে। এতে দাবি করা হয়েছে, মুগাবের সঙ্গে এপস্টিনের সম্ভাব্য আর্থিক যোগাযোগ থাকতে পারে।
২০১৫ সালের একটি ইমেইল বিনিময়ে এপস্টিন জাপানি উদ্যোক্তা জোই ইতোকে প্রস্তাব দেন, অতিমুদ্রাস্ফীতিতে দেশটির মুদ্রা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর জিম্বাবুয়েকে নতুন মুদ্রা সরবরাহের বিষয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুগাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
এছাড়া ২০১৭ সালের এফবিআই নথিতে এক অযাচাইকৃত গোপন সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয় এপস্টিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন এবং একই ধরনের ভূমিকা মুগাবের ক্ষেত্রেও পালন করেছেন।
তবে এপস্টিন নথিতে কারও নাম থাকা মানেই কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয় বলে স্পষ্ট করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে মুগাবে পরিবারের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছে বিবিসি।
জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ২০১৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ৯৫ বছর বয়সে মারা যান।
এপস্টিন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অর্থলগ্নিকারক। ২০০৮ সালে তিনি এক কিশোরীর কাছ থেকে যৌন সুবিধা নেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার অপেক্ষমাণ অবস্থায় কারাগারে তার মৃত্যু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত নতুন নথিতে এপস্টিন ও জোই ইতোর মধ্যকার ইমেইল যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। এক ইমেইলে ইতো জানতে চান, এপস্টিন মুগাবের বন্ধু কি না। জবাবে এপস্টিন বলেন, তিনি বন্ধু নন, তবে সহজেই তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন।
এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিতে জিম্বাবুয়ে ও মুগাবের নাম আরও কয়েকবার এসেছে। ২০১২ সালের একটি ইমেইলে ভুলভাবে দাবি করা হয়েছিল, মুগাবে ইতালিতে মৃত্যুশয্যায় রয়েছেন। বাস্তবে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মুগাবের এক সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, এ ধরনের ভুল তথ্য প্রমাণ করে যে নথিতে থাকা কিছু দাবি ভিত্তিহীন বা মনগড়া হতে পারে।
জিম্বাবুয়ে এখনও মুগাবের দল জানু-পিএফের শাসনে রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাস্ফীতির সমস্যায় ভুগেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোনাভিত্তিক একটি নতুন মুদ্রা চালু করা হলেও, সাধারণ মানুষ এখনও ব্যাপকভাবে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীল।
















