যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের আগে পিটার ম্যান্ডেলসন জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের গভীরতা সম্পর্কে তাকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন ইমেইলগুলোতে সেই সম্পর্কের ব্যাপকতা এবং ২০০৮ সালে এপস্টেইনের দণ্ডের পরও বন্ধুত্ব অব্যাহত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে, কারাদণ্ড ভোগ করার সময় এপস্টেইন ম্যান্ডেলসনকে বার্তা পাঠিয়ে লেখেন, আবার শুরু হলো। এর জবাবে ম্যান্ডেলসন বলেন, অন্তত তিনি এতে জড়িত নন। এরপর এপস্টেইন ম্যান্ডেলসনের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
২০০৯ সালের জুলাইয়ে এপস্টেইন মুক্তি পাওয়ার দিন দুজনের বার্তালাপ ছিল আনন্দঘন ও রসিকতাপূর্ণ। এপস্টেইন মুক্তির খবর জানালে ম্যান্ডেলসন জিজ্ঞেস করেন কীভাবে উদযাপন করা হবে। উত্তরে এপস্টেইন কৌতুক করে লেখেন, শালীনতা ও নম্রতার সঙ্গে, যা আসলে দুই স্ট্রিপারের নাম। পরে মুক্তি কেমন লাগছে জানতে চাইলে এপস্টেইনের জবাব ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন, যার উত্তরে ম্যান্ডেলসন লেখেন, দুষ্ট ছেলে।
এই সময়কার ইমেইলগুলোর ভাষা ছিল ঠাট্টা ও লাগামছাড়া। এতে বোঝা যায়, ইমেইলের পাশাপাশি তারা নিয়মিত ফোনেও যোগাযোগ করতেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, ম্যান্ডেলসন তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ব্যক্তিগত বিষয়েও এপস্টেইনের পরামর্শকে গুরুত্ব দিতেন। ২০১০ সালের মে মাসে সরকার ছাড়ার সময় এপস্টেইন তাকে বড় আলিঙ্গনের প্রস্তাব দেন। ম্যান্ডেলসন তখন মজা করে জিজ্ঞেস করেন, তুমি তো আমাকে ছেড়ে যাবে না।
২০০৯ সালের নভেম্বরে গর্ডন ব্রাউনের ওপর প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার চাপ নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। এপস্টেইন সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের অবস্থান জানতে চান। ম্যান্ডেলসন জানান, তিনি আলোচনা করবেন তবে উদ্যোগ নেবেন না। এপস্টেইন তাকে ব্রাউনের প্রতি আনুগত্য দেখানোর পরামর্শ দেন, কিন্তু সরে দাঁড়াতে বলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
ইমেইলে ব্যক্তিগত রসিকতাও দেখা যায়। এপস্টেইন ম্যান্ডেলসনের যৌনজীবন নিয়ে কটাক্ষ করলে ম্যান্ডেলসন তা ঠাট্টার ছলে গ্রহণ করেন।
সরকার ছাড়ার পর ম্যান্ডেলসন তার স্মৃতিকথা থার্ড ম্যান-এর খসড়া নিয়েও এপস্টেইনের মতামত চান। এপস্টেইন এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন, বইটি ম্যান্ডেলসনের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ক্ষতি করতে পারে। তিনি বইটিকে গসিপপূর্ণ ও আত্মরক্ষামূলক বলে সমালোচনা করেন এবং পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেন। ম্যান্ডেলসন এতে বিরক্ত হয়ে বলেন, বইটি এখনও শেষ হয়নি।
২০১২ সালের দিকে এসে এই বন্ধুত্বে টানাপোড়েন দেখা যায়। এক ইমেইলে এপস্টেইন অভিযোগ করেন, সম্পর্কটি একতরফা এবং তিনি সবসময় সাহায্য করলেও কৃতজ্ঞতা পাননি। এর জবাবে ম্যান্ডেলসন লেখেন, তিনি সবসময় এপস্টেইনের পাশে ছিলেন, পরামর্শ ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন এবং কখনো মুখ ফিরিয়ে নেননি।
এই ইমেইলগুলো প্রকাশের পর পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
















